Overblog All blogs Top blogs Humor & Comedy
Edit post Follow this blog Administration + Create my blog
MENU

Bangla blog,Bangla Kobita & Golpo.Funny Pictures & Jokes.

Advertising

১৭ পৃষ্টার চিঠির উত্তর এক কথা্য়-৩


আসুন একটু পরিচয় করিয়ে দেইঃ
১।সাথী-যে ফোন করে জীবনকে।মাঝে মাঝে চিটিপত্র গিফট সিফট ও দেয়।আরে মাঝে মাঝে কি বলতে গেলে প্রতিদিনই চিঠি লিখে।
২।জীবন-যে সাথীর আসল পরিচয় না জানা সত্বেও সাথীর চিঠি পত্র পড়ে এবং ফোনে কথা বলে।শুধু পড়ে না মনে মনে অপেক্ষাও করে।

গত পর্বে জীবন পার্সেল খুলার জন্য ফোন রেখে দেয়।জীবনের ফোন রাখার পর সাথী অনেক বার ট্রাই করেছে কিন্তু জীবন ফোন আনসার করেনি।বিরক্ত হয়ে শেষে রিসিভার তুলে রাখে জীবন।সাথী বারবার ডায়াল করে ইংগেইজ টৌন শোনার পর মনে কষ্ট নিয়ে চলে যায়।

জীবন প্যাকেট খুলে খুঁজাখুঁজি করে যখন দেখলো সত্যিই প্যাকেটে চিঠি নেই।তখন নিজের প্রতি খুব রাগ হয়েছিল।জীবন রেগে গেলে হাতের কাছে যা পায় তাই ছুঁড়ে মারে বা লাথি মেরে ভেঙ্গে ফেলে,কিন্তু কারো উপর সহজে হাত তুলে না।কাছে বেড টেবিলের উপর রাখা পুষ্পধারটা দেয়ালে ছুঁড়ে মারে।ঠিক এই সময় কলিং বেল বেজে উঠে।দরজা খুলে দেখে জীবনের বন্ধ শামীম।শামীম জীবনের খুব গনিষ্ট বন্ধু।
-সেই কবে থেকে ফোন ট্রাই করছি ইংগ্যাজ মারছে।কার সাথে কথা বলছিলে?তোর সেই ফোনওয়ালীর সাথে?
-তুইও আর সময় পাইলি না!আয় ঘরে আয় পরে সব বলছি।
জীবন দৌড়ে তার রুমে চলে যায় আর শামীম যাচ্ছিল বাথরুমের দিকে।রুমে পা রেখেই জীবন “ওম্মা”বলে মেঝে বসে যায়।শামীম দৌড়ে এসে দেখে জীবনের পা দিয়ে রক্ত ঝরছে।জীবন শামীমকে বলছে দাঁড়িয়ে দেখছিস কি?টেবিলের উপর থেকে টিস্যুর বক্সটা দিয়ে যা কিচেন থেকে ফার্স্ট এইড বক্সটা নিয়ে আয়। কিচেনে ঢুকেই হাতের বামে দেখবি fire-extinguisher এর উপরই এক তাকে first aid বক্স রাখা আছে।
শামীম বলছে চল হাসপাতাল চল!আমার সাথে গাড়ি আছে।বেশী সময় লাগবে না।জীবন বলছে না হাসপাতাল যেতে হবে না।সামান্য কাঁচের এক টুকরো ছিল।তুই যা বক্সটা নিয়ে আয় তাড়াতাড়ি।শামীম ফার্স্ট এইড বক্স নিয়ে আসার পর antiseptic wipe দিয়ে ভালো করে মুছে প্লাস্টার লাগিয়ে দেয়।তারপর জীবন ফোন হাতে নিয়ে ডায়াল করতে লাগলো সাথীকে।কিন্তু অপার থেকে বলা হলো সাথী চলে গেছে একটু আগে।জীবন জানে যে সাথীর ডিটেলস চাইলেও ওরা দিবে না।তাই ফোন রেখে দিয়ে শামীমকে সব খুলে বলে।সব শোনার পর শামীম বলছে চল গার্ডেনে যাই।গার্ডেনে বসে সিগারেট টানতে টানতে চিন্তা করব।ওহ_তুই তো আবার সিগারেট ছেড়ে দিসিছ।তোর রুমেও খাওয়া নিষেদ।আরে না, তুই খাইতে চাইলে লিভিং রুম থেকে আস্ট্রেটা এনে এখানেই খা আর আমাকেও একটা দিস।আমি গার্ডেনে যেতে পারব না ওর ফোন আসতে পারে আবার বলছে জীবন।বাদ দে সিগারেটের কথা।তুই যখন ছাড়তে পেরেছিস তোকে আর নতুন করে শুরু করতে দিব না আমি।চল বরং কিচেনে গিয়ে চা বানিয়ে নিয়ে আসি।এতে আমার সিগারেটের নেশা চলে যাবে আর তোরও মাইন্ড একটু ফ্রেস হয়ে যাবে।আচ্ছা বাসায় কাউকে দেখছি না যে বলছে শামীম!
বাবা,মা সকল নানা বাড়ি গেছেন আজ সকালেই।দুই চার দিন থাকবেন এই বলে শামীমকে নিয়ে কিচেনে চলে যায় জীবন।জীবন চায়ে দুধ ঢালবে ঠিক এই সময় বেজে উঠে ফোন। জীবন দৌড়ে গিয়ে ফোন ধরে হেলো সাআআ___।।এহেম

-কি করছিস বাবা?
-না,মা,কিছুই না!তোমরা পৌছে গেছ?এতো দেরী হলো কেন?
-আর বলিসনে বাবা।আচ্ছা তুই খেয়েছিসতো? দেখ আমি রান্না করে রেখে এসেছি সব।সময় মতো খাওয়া দাওয়া করিস।আর আমাদের ফোনের কি হয়েছিল।আমি এক ঘন্টা ধরে ট্রাই করছি কিন্তু।।
-এমএম ও, মা,মা শামীম ফোন করেছিল তার সাথে কথা বলছিলাম ওই যে নতুন একটা ব্যবসার কথা বলেছিলাম না,ওই ব্যাপারে।সে এখন আমাদের বাসায়ই আছে।তাকে বলেছিলাম তোমরা বাসায় নেই তাই এসেছে আমাকে দেখতে।
-ভালো করেছে।শুন শামীমকে বলবে ওর কাজ না থাকলে থেকে যেতে বুঝলি!তোর ভালো না লাগলে তুইও কাজে যাবি না,ছুটি নিয়ে নিস।আমি এখন রাখছি।রাত্রে কোথাও বেরুবে না কিন্তু।শুন,শুন খাবার মাইক্রো অভেনেই গরম করেনিস।গ্যাসের কুকার অন করবি না।তোর যে ভুলা মন।।
-আচ্ছা মা,ঠিক আছে করব না।

শামীম চায়ে দুধ ঢেলে নিয়ে আসে,জীবন মাথায় হাত দিয়ে বসে আছে ডাইনিং রুমে।মনে মনে নিজেকেই প্রশ্ন করছে হোয়াই ডিড আই ডু দ্যাট? আমি এমন করতে গেলাম কেন?না,আমি কাজটা ঠিক করিনি।আই শুড নোট হ্যাভ ডান দিস।মেয়েটা মনে খুব কষ্ট পেয়েছে।আমি ওর বিশ্বাস ভঙ্গ করেছি।না,না,আমাকে মাফ চাইতেই হবে,যে করেই হোক ওর সাথে কথা বলতে হবে,খুজে বের করতেই হবে।কে সে? কী তার আসল পরিচয়?কিন্তু__।
কি রে চা খাচ্ছিস না যে!ঠান্ডা হয়ে যাবে তো।ওহ তুইতো আবার টাটকা গরম চা খেতে পারিস না।তো কি ভাবছিস?সবি তো শুনলাম এখন কী করবে শুনি?আচ্ছা সত্যি করে বলতো তুই কি ফোনওয়ালীকে ভালবাসতে শুরু করেছিস?আমার তো মনে হয় শালা তুই ওর প্রেমে পড়ে গেছিস।
আবারো ফোন রিং হচ্ছে!জীবন ফোন ধরতেই___।
-কি রে কি করছিস?মা ফোন করেছিলেন?তুই খাওয়া দাওয়া করেছিস?তোকে কত করে বললাম আমার এখানে চলে আয়।একবার না বলছিস তো না___।
-হ্যাঁ কিছুক্ষণ আগে মা ফোন করেছিলেন।আচ্ছা আপু! দুলা ভাই কি বাসায়?
-না রে,একটু আগেই তো কাজে চলে গেছে।কেন? কোন দরকার থাকলে আমাকে বলতে পারিস।কাজের ফোন নাম্বার দিব?
-না,থাক।এমনিতেই জিজ্ঞ্যাস করেছিলাম।আচ্ছা আপু এখন রাখি!!বাই।
-কার ফোন ছিল? বড় আপার?চল বড় আপার বাসায় ঘুরে আসি।অনেকদিন হিটলারের সাথে দেখা হয়নি।আজ রেস্টুরেন্টে খেয়ে হিটলারের ওয়ালাটের ওজন একটু কমিয়ে আসবো বলছে শামীম।
-হিটলার বাসায় নেই কাজে।আচ্ছা আজ কি তোর ছুটি?
-শুধু আজ না,পুরো এক সপ্তাহের ছুটি।
-খুব ভালো হয়েছে।তুই একটু খাড়া আমি মাকে একটা ফোন করে নেই।
-হেলো খালা! মাকে একটু দিবেন?না থাক দিতে হবে না।আপনি শুধু মাকে বলে দিবেন যে,আমি আমার বন্ধু শামীমের সাথে ওর বাসায় চলে যাচ্ছি।আজ ওখানে থেকেও যেতে পারি।আমি পরে আবার ফোন করব।রাখি খালা!সালামালিকুম।

-ওই চল আমার সাথে।
-কোথায়?
-আগে গাড়িতে ওঠ গিয়ে পরে সব বলছি__

চলবে>>>

Advertising
Back to home page
Share this post
Repost0
To be informed of the latest articles, subscribe:
Comment on this post